১৯৭১...
মাঝরাত..
পাশের বাড়ির খলুর বা'পের হাপানীর আওয়াজ শোনা যাচ্ছে।এই বুড়োলোক অর্ধেক রাত পর্যন্ত এমন হাপাতে থাকে বাকি রাত ঘুমায়।
বাথরুমের প্রচন্ড চাপ দিছে, সন্ধ্যাবেলা বাসি মুগডালের ভর্তা খাওয়াটা ঠিক হয় নাই।
না, আর সম্ভব না চাইপা
রাখা।
হারিকেনের আলো নিভুনিভু করতাছে, ঘূর্ণিটা টা দিয়ে শলতের মাথাটা বড় করে নিলাম।
বাগানের মধ্যে যাচ্ছি। রাতের বেলা বাগানের মধ্যে যাইতে ভয় লাগে।ওইদিন মতি কাকুর মেয়ে আয়েশা রাতের বেলা বাগানে আইছিলো, তিনডা শয়তান পোলা ওরে টাইনা নিয়ে চলে গেছে। সকাল বেলা মাইয়াডারে অজ্ঞান অবস্থায় বাগানের মধ্যে পাইছে।
লোকে কয় কাপড় চোপড় নাকি গায়ে ছিলনা।
মাইয়াডা পরে আত্মহত্যা করছে…
আহারে, আয়শা মেয়েডা আমারে আপা কইয়া ডাকতো।
আব্বাজানরে বলছিলাম একটা ল্যাট্রিন বানাইতে। পাশের বাসার খলুরাও বেরা দিয়া একটা ল্যাট্রিন বানাইছে। রাতের বেলা চাপ দিলে একা যাইতে ভয় লাগে...
আমি বাগানের ভেতর দিয়ে যাচ্ছি, কুচকুচে অন্ধকার।
দেশে নাকি যুদ্ধ লাগছে, আমারে গ্রামের স্কুলের আপা কইছে যুদ্ধ লাগলে নাকি মাইয়াগোরে ধর্ষণ করে। এইডা নাকি যুদ্ধের ধর্ম।
কি হইবো আমাগো দেশের মাইয়াগো, কি হইবো আমার?
আরেকটু আসতেই নাকে বিশ্রী গন্ধ পাওয়া শুরু করলাম। এখানে বসতে হবে।
হঠাৎ লক্ষ্য করলাম বাগানের আরো ভেতরে থেকে চাপা একটা কান্না সাথে চিৎকারের শব্দ আসছে।
ভয়ে আমার শিরদাঁড়া দিয়ে ঠান্ডা স্রোত নেমে যাচ্ছে।
মেয়েদের কন্ঠ..
একটা না, ২/৩ টা মেয়ের কন্ঠ,
মনে হচ্ছে মেয়েগুলো ৫,৭ টা হিংস্র জানোয়ারের সাথে যুদ্ধ করছে।
জানোয়ারগুলোর মুখে লালোসার তীব্র হাসি।
এইবার জানোয়ারদের শব্দ শুনতে পেলাম,
-" লাইট মার...কিছুই দেখছি না। মাগী এইডার শক্তি মনে হয় বেশি। "
-" জইল্লা, তাড়াতাড়ি কর। আমার তর সইছে না।"
দূর থেকে পাকিস্তানি লাইটের আলো দেখা যাচ্ছে। আমি ভয়ে হিম হয়ে যাচ্ছি।বাহ্যিকচাপ আর নেই। এখন সবটুকু ভেতরের চাপ।
মনে হয় বুকের বা পাশে কে যেনো হাতুরি দিয়ে আঘাত করছে।
পা দুটো অশার হয়ে পড়ছে।
আমার উচিৎ এখন দৌড় দিয়ে এখান থেকে পালানো কিন্তু পায়ে শক্তি নেই।কে যেনো পায়ের দড়ি বেধে দিয়েছে।
মুখ দিয়ে আমার 'আ' 'আ' শব্দ বের হচ্ছে।
এই শব্দ আমি করতে চাচ্ছি না, তারপরও কেন বের হচ্ছে?
আমার অজান্তেই বের হচ্ছে, আমি আটকাতে পারছি না।
শব্দের তীব্রতা আরো বাড়ছে।আরেকটু হলেই ওইপাশের জানোয়াররা জেনে যাবে আমি আছি।
আমি ঘামছি, প্রচুর ঘামছি।
হঠাৎ কোন জানোয়ারের মুখ থেকে শুনলাম,
'ওই এইপাশে কে জানি আছে, এই দেখোস না আলো আইতাছে।'
'হ, একটা আওয়াজ ও আইতাছে। মাইয়াগো কণ্ঠ মনে হয়।'
'আজ মনে হয় দিনটাই ভালো। তুই ওরে কর, আমি গিয়ে দেখি কে'
একটা জানোয়ার আসছে, দ্রুত আসছে।
খাকি পোশাক পরা জানোয়ারটা আমার সামনে এসে দাত বের করে হেসে দিলো। এলাকার শান্তি কমিটির চেয়ারম্যানের ছোট ছেলে। আমি চিনি ওকে...
ওর বড় বড় চোখ চলে যাচ্ছে দেহের একটা নিদিষ্ট অঙ্গের দিকে।
আমার হাত ধরে দিলো একটা টান। আমার গায়ে শক্তি নেই।ও আমাকে কোলে তুলে নিয়ে যাচ্ছে, আমার কানে ওই মেয়েদের কান্নার শব্দ আরে
পরিষ্কার হয়ে আসছে...
মেয়ে ২টা থেকে কয়েকহাত দূরে আমাকে শুইয়ে দিলো। এখন আর একটা মেয়ে কান্না করছে না। আরেকটা মেয়ের কণ্ঠও ক্লান্ত হয়ে আসছে।
একটা জানোয়ার আমার কাপড় খুলে নিচ্ছে, আমার বাঁধা দেওয়ার শক্তি নেই।
আমি কান্না করছি কিন্তু আমি জানি ঐ মেয়ের মত আমার কান্নাও একসময় থেকে যাবে
.
.
.
হঠাৎ করে চোখ খুলে উঠে বসলো রামিসা৷ ঘুমের মধ্যেও ভয়ংকর স্বপ্ন ওকে ছাড়েনি।
ওর গলা বেয়ে ফোটা ফোটা ঘাম শরীরের ভেতরে চলে যাচ্ছে।
ওরা চলে যাচ্ছে মধুপুর থেকে দূরে। ওর আব্বা বলছে ঢাকায় যাবে। ওখানে ওদের কেউ চিনবে না।
২ সপ্তাহ আগে রামিশাকে ধর্ষণ করছে এলাকার তিনজন। রামিশার যোনির উপর অধিকার করে নিয়েছে ঐ তিনজন।
ওর বাবাকে কাজ থেকে বের করে দিয়েছে এলাকার চায়ের দোকানদার,
ধর্ষিতার বাবার হাতের দেওয়া চা কেউ খেতে চায় না...
এখন দেশ স্বাধীন কিন্তু সমাজ এখনও রামিশার যোনিও উপর অধিকারত্ম ছাড়েনি...