হাতির ঝিলের ২ নাম্বার ব্রিজের উপর দাঁড়িয়ে মন্ড নামক স্টোবেরী ফ্লেভারের সিগারেটটায় টান দিলাম।
ব্রিজে তেমন লোক নেই।
দুইটা ছেলে একে অপরের দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসছে, একজন আরেকজনের হাত ছুঁয়ে দিচ্ছে....
ভাব চক্কোরে বুঝলাম হয়তো গে, অথবা দুইজনই OCD তে আক্রান্ত। কে জানে? দুনিয়াতে কি থাকতে পারে আমার তা সব জানা নেই।
মগবাজার যাবো, সেখান থেকে আগারগাঁও...
আবার হেঁটে একনাম্বার ব্রিজে এসে চক্রাকার বাসে উঠলাম।
বাসটাও খালি, ভেতরে একটা ছেলে একটা মেয়ে। উচ্চস্বরে হেসে হেসে কথা বলছে।
আমি হেডফোনে গান অফ করে ওদের কথা শুনছি। হাসার মত কোন কথা না, ছেলেটা লেইম লেইম জোক বলছে আর মেয়ের কাছে তা মিষ্টারবিনের কমেডি শো মনে হচ্ছে...
ভাবলাম,
" এখানে ছেলে মেয়ে বিয়ের আগে ডেইট এ গেলে, হাত ধরে হাটতে একদল এমন ভাবে মনে হয় দুনিয়ার সবথেকে জঘন্যতম কাজ করে ফেলেছে, দুই মিনিট পর এখানে লিটল বয় ফাটবে।
আর দুইটা ছেলে বিয়ের আগে,
ধুর, বিয়ের আগে মানে কি!
দুইটা গে ছেলে সারাদিন রুমে থাকলেও কিছু ভাবে না! আর মেয়েরা তো......
অদ্ভুত জায়গারে ভাই!! "
আরে কি ভাবতাছি এগুলা?
কাম কাজ না থাকলে যা হয় আরকি!
মগবাজার থেকে লাব্বাইকে আগারগাঁও চলে আসলাম।
আগারগাঁও নিউরো সাইন্স হাসপাতালের সামনে এসে দাঁড়িয়ে আছি, ৩ তালায় কত নাম্বার রুমে যেতে হবে নিপার মা এখনো জানায়নি।
ব্যাগের ভেতরে দুইটা খুব গুরুত্বপূর্ণ জিনিস আছে। ৮ বছর ধরে লেখা ১ টা কবিতার বই। আগেরবারের বই মেলায় বের হয়েছে। মোট ১৩ টা কবিতা আছে। অনেক চেষ্টা করেও ১২ টার বেশি কপি বিক্রি করতে পারিনি। ৪টা জোর করে নিজের আত্মীয়দের, ৩ টা বন্ধুদের দিয়ে কিনিয়েছি আর ৫ টা কপি প্রকাশক নিয়ে কাকে কাকে জানি দিয়েছে...
আর আছে ৫ লক্ষ টাকা। ৩ মাস আগে বসে ২০ টা কবিতার একটা বই লেখে ফেলেছি। এইবারের বই মেলায়ই প্রকাশিত হয়েছে। বইয়ের কভারে আকর্ষণীয় একটা টাইলেট, আর অত্যাধুনিক প্রচ্ছেদ ডিজাইন করা হয়েছে।
ওখান থেকে লয়ালিটি বাবদ ৫ লক্ষ টাকা।
নিপার মা'কে ৫ লক্ষ টাকা দিয়ে আমি রাস্তায় পাশে বসে কবিতার বইটা খুললাম।
তৃতীয় কবিতা পড়ে চোখ থেকে এক ফোঁটা জল রাস্তার ধুলোয় পড়লো। সাথে সাথে মিলিয়েও গেল।
ধুলোও ক্লান্ত, আহত, তৃষ্ণার্ত...