মেয়েটার জন্য কাল মারামারি করে আসলাম।
বাসার কাউকে বলিনি। পেটের একটা স্থানে ছুরির আঘাত। এখনো ব্যাথা করছে। কাল অনেক রক্ত ঝরেছে ক্ষত থেকে!
বদমাইসের বাচ্চাগুলো তিন্নির দিকে তাকাইছে। ওদের সাহস কত বড়ো! আবার নাকি তিন্নিকে প্রপোজ করতে চাইছে..! ওদেরকে যে খুন করে আসি নাই ওদের বাপের ভাগ্য।
বিছনা থেকে উঠে ওয়াসরুমে গেলাম। সেন্ট গ্যাঞ্জিটা অর্ধেক তুলে ক্ষত স্থানটা দেখলাম। পাকা টমেটোকে ছুড়ি দিয়ে কাটার পর যেমন হয়, তেমন অবস্থা এখন পেটের কাটা অংশের।
কাল সকালে ফিজিক্স প্রাইভেট, প্রাইভেটে হেডস্যারকে জানানোর আগে ওই বদমাইসের বাচ্চাগুলারে ধরা লাগবে। হোসেন আর শম্ভুর বাসায় গিয়ে ওদেরকে ব্যাপারটা বলা লাগবে। ৩/৪ জন পোলাপাইন গিয়ে থ্রেট দিলে আর কিছু বলবে না।
.
.
পরেরদিন,
.
.
.
-"সাইলেন্স প্লিজ, রোল কল করা হচ্ছে। এক"
-"ইয়েস ম্যাম"
-"দুই"
-"প্রেজেন্ট ম্যাম"
-" দ্বীপরাজ, তোমাকে হেডস্যার ক্লাস শেষে দেখা করতে বলেছে।"
ওদেরকে থ্রেট দিলাম তারপরও স্যাররে বলছে। খালি স্কুল শেষ হোক তারপর দেখতাছি..!
-"শম্ভু, নিউ টেন এর ৩/৪ টা পোলাপাইন নিবি, আর হোসেন, তুই নাইনের ৩/৪ টা পোলাপাইন রে নিবি। আজ কুত্তারবাচ্চাগোরে দেখাইয়া দিবি।"
-"শোন, স্যাররের কাছে তোর নামে নিশ্চই নালিশ গেছে। এখন আবার ওদেরকে মারা ঠিক হবে কিনা ভেবে দেখ। আবার নালিশ গেলে সমস্যা হবে আরো। আর এইসব মারামারির পর তিন্নি তোরে কেমন দেখছে একটু ভাব।"
-"আমি ভাবাভাবি জানিনা। ওই সুমন কুত্তারবাচ্চার কত সাহস ও তিন্নিরে রাতে মেসেজ পাঠায়! আর মেসেজ কি, 'চুমা কি দ্বীপরেই দিবা নাকি আমিও পাবো...!'
আমি ওরে খুন করিনাই ওর বাপের কপালের কারণে! "
-" আচ্ছা আগে হেডস্যারের রুমে যা, দেখ স্যার কি বলে"
.
.
.
-"স্লামালাইকুম স্যার, আসতে পারি?"
স্যার মুখ তুলে মুখের ভাব ঝুনা নারিকেলের মত টান টান করে তাকিয়ে আছে,
-" আসো দ্বীপরাজ....... আমি চাচ্ছিলাম ব্যাপারটা তোমার বাবার সাথে আলাপ করবো। কিন্তু পরে ভাবলাম দেখি তোমাকে বলি। যদি তুমি শুধরে যাও তাহলে। এই বয়সে এইসব ব্যাপার হয়, কিন্তু এর জন্য মারামারি খুনাখুনি, তাও তোমার মত ছাত্র....!
আমি আরো একবছর আগে থেকে এগুলা শুনে আসছি। তুমি নিশ্চই জানো, তোমার এইসব কাজের কারণে তোমার খাতার নাম্বার ও কমিয়ে দেওয়া হয়। শক্ত কথা বলে দেই, যদি সামনে এমন কিছু আমি শুনতে পাই, তোমাকে এখান থেকে টিসি দেওয়া হবে...!"
-"সরি স্যার, কিন্তু সুমন তিন্নিকে খারাপ খারাপ মেসেজ পাঠায়, ওদের দল তিন্নির যাওয়ার পথে বিরক্ত করে। আপনি ওর বিরুদ্ধে কিছু কেন বলছেন না?"
-" তোমার ওই ঘাড়ত্যাড়া স্বভাব যদি না দূর করো তাহলে ভবিষ্যতে এটার জন্য অনেক কিছু পোষাতে হবে। স্যাররা তোমার আচরণে প্রচন্ড উদিগ্ন"
.
.
বিকেলে,
.
.
-"কাদছো কেন তিন্নি? কি হয়েছে? আমাকে বলো, ওই শুয়োর গুলা আবারো তোমারে...."
-"তুমি আমার সাথে আর কখনো কথা বলবে না। তোমার আর সুমনের জন্য আমার জীবন শেষ। তুমি আমার জীবনে একটা অভিশাপ, শুধু অভিশাপ..."
-"এগুলা কি বলছো? সুমন কুত্তারবাচ্চারে আজ মেরে ফেলবো...."
কাগজের খসখসে পাতা উলটানোর মত শব্দ হলো...
গালে ৫ টা আংগুলের দাগ পরে গেছে...
-"আমি তোরে যদি আবার দেখি আমার আশেপাশে, আমি ডাইরেক্ট পুলিশের কাছে গিয়ে বলবো....তোর মত ছেলের সাতে আমার জীবনের জন্য শুরু কাল..তুই আমারে..... "
রুদ্রমূর্তি নিয়ে তিন্নি স্থান ত্যাগ করলো...
অবাক হয়ে দাড়িয়ে আছি, মস্তিষ্কে ভেতরে ঝিঝিপোকার পাখা ঝাপটাপোর তীঘ্ন শব্দে রন্ধ্রে রক্ত প্রবাহে বেঘাত ঘটছে। কি না করেছি এই মেয়েটার জন্য?!
আর মেয়েটা আমাকে এভাবে....
চোখের কোণায় জলের রন্ধ্রেগুলোর বাঁধ আর টিকছে না। ডান চোখ বেয়ে ফোটা ফোটা জল নেমে আসছে...
.
.
পরের দিন হেডস্যারের রুমে,
.
.
-"দ্বীপরাজ, তোমাকে আমি বারবার সর্তক করেছিলাম। কাল তুমি আবার সুমনদের সাঙ্গপাঙ্গকে পিটাইছো। তোমার বাবা আসছে, তোমাকে আমরা ১ বছরের জন্য সাসপেন্ড করছি। তোমার এই ব্যাপার সুমনের বাবা ইউএনও স্যারকে জানাইছে, ইউএনও স্যার থেকে পারমিশন আসছে তোমাকে সাসপেন্ড করার। তোমাকে অনেক সর্তক করেছিলাম। করার কিছু নেই...তোমার বাবা আসছে, আমি তাকে কল করেছি.."
আমার মুখে ৩ টা বেন্ডেজ। দুইহাতে ক্ষত....
.
.
বাবা, আমি আর হেডস্যার উপজেলা নির্বাহীর কার্যালয়ের ওয়েটিং রুমে অপেক্ষা করছি...
এক দারোয়ান এসে আমাদের ভেতরে নিয়ে গেল...
আমার চোখের সামনে আমি বাবাকে চোখের জল ফেলতে দেখেছি। আমি বাবাকে কখনো কাঁদতে দেখেনি। এই প্রথম কান্না দেখি...
ইএনও'র রুম থেকে বের হয়ে বাসায় যাবো। মাঝ রাস্তায় গাড়ি থেকে নেমে গেলাম।
আমার মাথায় আর দুনিয়ার কিছু নেই। ইএনও স্যার এর পা ধরে বাবা যে কান্না করতেছিলো,এটাই মাথায় শুধু এটাই চলছে....নিজের প্রতি প্রচন্ড ঘৃনা কাজ করছে!
আমি হেটেই চলছি...আমার একটু সময় দরকার মাত্র...