সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

Recent Writing

TOP X

 সকাল সকাল মোবাইলের রিংটনে ঘুম ভেঙ্গে গেল। অনুর ফোন! এতো সকালে? “কি অবস্থা এতো সকা……” ভ্যা ভ্যা করে কান্নার শব্দ আসছে। “কি হইছে?” “দাদা……” আবারো ভ্যা ভ্যা করে কান্নার শব্দ, “আরে কি হইছে? কান্না করতেছো কেন?” “দাদা, অভি, অভি……”  “আরে এতো কান্না করলে তো কথাই বলতে পারবা না। আর অভি তো ঘুমাচ্ছে।” “দাদা, অভি আমার সাথে ব্রেকাপ করেছে!” “কি!!!” অনুস্মিতা কানতে কানতে বললো, “সকালে উঠে দেখি অভির ম্যাসেজ। ম্যাসেজটা আপনাকে ফরোয়ার্ড করে দিচ্ছি। কি হয়েছে ওর কিছুই বুঝতে পারছি না। আমাকে সব জায়গা থেকে ব্লক করে দিয়েছে!” “আগের দিন ঝগড়া হয়েছিলো? তোমাদের তো দুই দিন পর পর খালি ঝগড়া!” “না দাদা, আমাদের গত ২/৩ মাস ধরে কোন সমস্যা হয়নি। আজ সকালে উঠে দেখি অভির ম্যাসেজ! তারপর…” “আচ্ছা, ফোন রাখো, দেখছি কি হয়েছে!” অভিজিৎ আমার ছোটভাই, আর অনুষ্মিতা ওর গার্লফ্রেন্ড। অনুষ্মিতা আমার ছোট বোনের মতো, আমাদের পরিবার সাথে ওদের পরিবারের বিশাল ভালো সম্পর্ক। আমার দেখা পৃথিবীর অন্যতম সুন্দর সম্পর্কের মধ্যে ওদেরটা একটা। আমার ধারণা ছিল পৃথিবীর সবার সম্পর্ক ভেঙ্গে গেলেও ওদেরটা ভাঙ্গবে না। কিন্তু আমার ধারণাকে ভেঙ্গে দিয়ে কি হয়ে ...

TOP X

 সকাল সকাল মোবাইলের রিংটনে ঘুম ভেঙ্গে গেল।

অনুর ফোন! এতো সকালে?

“কি অবস্থা এতো সকা……”

ভ্যা ভ্যা করে কান্নার শব্দ আসছে।

“কি হইছে?”

“দাদা……”

আবারো ভ্যা ভ্যা করে কান্নার শব্দ,

“আরে কি হইছে? কান্না করতেছো কেন?”

“দাদা, অভি, অভি……” 

“আরে এতো কান্না করলে তো কথাই বলতে পারবা না। আর অভি তো ঘুমাচ্ছে।”

“দাদা, অভি আমার সাথে ব্রেকাপ করেছে!”

“কি!!!”

অনুস্মিতা কানতে কানতে বললো,

“সকালে উঠে দেখি অভির ম্যাসেজ। ম্যাসেজটা আপনাকে ফরোয়ার্ড করে দিচ্ছি। কি হয়েছে ওর কিছুই বুঝতে পারছি না। আমাকে সব জায়গা থেকে ব্লক করে দিয়েছে!”

“আগের দিন ঝগড়া হয়েছিলো? তোমাদের তো দুই দিন পর পর খালি ঝগড়া!”

“না দাদা, আমাদের গত ২/৩ মাস ধরে কোন সমস্যা হয়নি। আজ সকালে উঠে দেখি অভির ম্যাসেজ! তারপর…”

“আচ্ছা, ফোন রাখো, দেখছি কি হয়েছে!”


অভিজিৎ আমার ছোটভাই, আর অনুষ্মিতা ওর গার্লফ্রেন্ড। অনুষ্মিতা আমার ছোট বোনের মতো, আমাদের পরিবার সাথে ওদের পরিবারের বিশাল ভালো সম্পর্ক। আমার দেখা পৃথিবীর অন্যতম সুন্দর সম্পর্কের মধ্যে ওদেরটা একটা। আমার ধারণা ছিল পৃথিবীর সবার সম্পর্ক ভেঙ্গে গেলেও ওদেরটা ভাঙ্গবে না। কিন্তু আমার ধারণাকে ভেঙ্গে দিয়ে কি হয়ে গেল!!


বিছানায় বসেই অনুর থেকে দেওয়া ম্যাসেজটা পড়ে ফেললাম। অভি লিখেছে, 


আমার জীবনের ডিরেকশন চেঞ্জ হয়ে গেছে অনু! আমার জন্ম কোন ক্ষুদ্র কাজের জন্য হয়নি। আমাকে TOP X হতে হবে। আর আমার TOP X হওয়ার জন্য তোমার সাথে সম্পর্ক ছাড়তে হবে। আমাকে এই সিস্টেমের বাহিরে বের হতে হবে। আমরা একটা Matrix এর মধ্যে আছি। আমাকে যাইহোক না কেন এই Matrix এর বাহিরে বের হতে হবে। এইসব রিলেশন, প্রতিদিন ক্লাশ, ল্যাব, লেখাপড়া, এসাইনমেন্ট, প্রতিদিন ৯-৫ চাকরি সব আমাদেরকে Matrix এর মধ্যে রেখেছে। আমার চিন্তা করাকে আটকিয়ে দিয়েছে। আমাদেরকে ভুল শেখানো হচ্ছে। লেখাপড়া, চাকরি সব SCAM! আমাকে এই সোসাইটির লুপের বাহিরে যেতে হবে!

তোমার জন্য শুভকামনা রইলো। আমার থেকে জীবনে ভালো কাউকে পাবে তুমি। ভালো থেকো। আমাকে আর ফোন করবে না কখনো।

” 

ম্যাসেজ পড়ে আমার চোখ কপালে উঠে গেছে। লুঙ্গি ঠিক করতে করতে ডাইরেক্ট অভির রুমে চলে গেলাম। 

করাত দিয়ে গাছ কাঁটার মত শব্দ করে নাক ডেকে ঘুমাচ্ছে। মনে হচ্ছে গত কয়েক বছরে ঘুমাইনি। 

৩/৪ বার ঠেলা দেওয়ার পর উঠে গেল। 

“কি হয়েছে, এতো সকাল সকাল ঘুম ভাঙ্গালে কেন?”

 “অনুর সাথে তোর কি হইছে? আর ওকে কি সব ম্যাসেজ করেছিস? TOP X, Matrix, SCAM??? কি এগুলো?”

কথাগুলো শুনে অভির চোখ বড় বড় হয়ে গেল। মুখে তীব্র আগ্রহের হাসি। মনে হচ্ছে আমার উপর দিয়ে বিশাল জ্ঞানের বার্তা এখনই প্রবাহিত হবে।


“তুমি এখনো TOP X, Matrix, SCAM এইসব ব্যাপারে কিছু শোনো নাই?”

“না! কি এগুলো?”

অভি ওর মোবাইল চেক করলো। 

“ও শিট, সকাল ৭.১২ বেজে গেছে। একটু অপেক্ষা করো আমি একটু কোল্ড শাওয়ার নিয়ে আসি”


ওর এইবারে কথা শুনে আমার চোখ কপাল থেকে কিডনীতে চলে আসলো…

“কোল্ড শাওয়ার?”

যেই ছেলে দুপুর ৩টার আগে স্নান করে না। শীতের দিনে ২/৩ সপ্তাহ স্নান করে কাটিয়ে দেয় আর সে আজ সকাল ৭টায় কোল্ড শাওয়ার নিবে?

“হ্যা, বরফের জন্য কাল রাতে অনেক জল ফ্রিজে রেখে দিয়েছিলাম।”

আমি ওর দিয়ে ড্যাব ড্যাব করে তাকিয়ে আছি। ওর কোল্ড শাওয়ার নিতে চলে যাচ্ছে। 

যাই, আমিও গিয়ে ফ্রেশ হয়ে আসি…

অভি ব্লেজার, টাই, শ্যু পরছে। পাশে থাকা মগ থেকে গরম কফির ধোঁয়া উঠছে। আমি ওর এইসব কান্ড দেখে টাস্কি খেয়ে বসে আছি।

টাইয়ের বাঁধন দিতে দিতে অভি বলছে,

“শোন, আমি আর সবার মত জীবন কাটাতে চাইনা। আমাকে TOP X হতে হবে। এই সিস্টেম রুল সবকিছু বাহিরে বের হতে হবে। আমাকে ম্যাট্রিক্স এর বাহিরে বের হতে হবে। এই সোসাইটি আমাদেরকে একটা রুলসের মধ্যে ঢুকিয়ে দিয়েছে আর রুলসই হলো ম্যাট্রিক্স। আমি এই ম্যাট্রিক্সকে ভাঙ্গবো! আমাকে সিগমা-মেইল হতে হবে! লেখাপড়া একটা SCAM! চাকরি বাকরিও SCAM! আমাদের যা দেখানো হচ্ছে সবকিছুই SCAM! ”


মাথা চুলকাতে চুলকাতে বললাম, “এগুলো কি? আমার তো ঠিকমত বুঝতে পারছি না।”

“তুমি Undertaker Late, Marri Joshon, Top Millionaire Thoughts চ্যানেলের ভিডিও দেখো না?”


Undertaker Late!!! কয়েকদিন ধরে অনেকরে এদের নিয়ে কথা বলতে শুনতেছি। ইন্টারনেটে নাকি ওদের নিয়ে প্রচুর কথা হচ্ছে।


“Top Milionaire এর একটা ভিডিও দেখেছি। দুনিয়া অনেক বিলিওনিয়াওরা সকালে উঠে কোল্ড শাওয়ার নেয়। তারপর কফি খেয়ে কাজে নেমে পরে। আর শোনো এখন আমি ইউনিভার্সিটি যাচ্ছি আমার ভর্তি ক্যান্সেল করতে। আমাকে এই এডুকেশন সিস্টেম আবদ্ধ করে রেখেছে। আমি এই এডুকেশন সিস্টেমের বাহিরে আসতে চাই! জানো তো, পৃথিবী বড় বড় সব টাকাওয়ালারা ড্রপআউট।”


কথাগুলো বলে আবারো টাইয়ের বাঁধন ঠিক করার দিকে মন দিলো অভি!


আমি মোটামোটি শিউর এই ছেলে মাথা গেছে! ও যা বলছে তার কিছুটা মেনে নেওয়া যায় কিন্তু আমার ধারণা ও এগুলো এনালাইসিস না করেই সিদ্ধান্তগুলো নিচ্ছে। এখন ওকে বাঁধা দিতে গেলে ও আরো বেঁকে বসবে। স্মার্টলি ওকে হ্যাল্ডেল করা লাগবে।


“আচ্ছা যা ইচ্ছা কর কিন্তু ব্রেকাপ করলি ক্যান?”

কফির কাপে চুমুক দিয়ে বললো,

“মেয়েরা হলো ডিসট্রাকশন! হ্যা, আমার কথা কিছুটা মিসোজিনিস্ট মতো শোনাচ্ছে কিন্তু করার কিছু নেই। এই কথা আমার না, আমার গুরু Undertaker Late এর।”

“কিন্তু তুই ইন্টারে খারাপ রেজাল্ট করার পর অনুর প্রচেষ্টায়ই তো চান্স পেলি। মেয়েটা তোকে যেভাবে সাহায্য, মোটিভেশাল, অনুপ্রেরণা দিয়েছে এরপরও ওর তোকে ডিসট্রাকশন মনে হয়?”

“আমি জানি না। আমাকে ম্যাট্রিক্সের বাহিরে যেতে হবে। দাড়াও একটা পোস্ট দিয়ে নেই ফেসবুকে”

“কি পোষ্ট দিবি?”

“Success is success if you think that is a success. If 99% people of the world think you are wrong and you think you are right, then you are right! Be confident, Break the Rule, Get Out of the Matrix. Fish is not born to live in water, fish is……”


“হু তারপর? ফিস জলের বাহিরে গিয়ে বাঁচবে! ভালো মতো তো উদাহরণও বানাতে পারলি না।”

“আরে হইবে একটা!  যাইহোক তুমি থাকো, আমি ইউনিতে যাচ্ছি।”


“আচ্ছা যা কিন্তু আগে আমার কথা শুনে যা…”

“ যা বলবি তাড়াতাড়ি বল। আমার অনেক কাজ আছে।”

“আচ্ছা আমাকে এটা বল এডমিশন ক্যান্সেল করার পর কি করবি?”

“কিছু একটা করবো। আমাকে ম্যাট্রিক্সের বাহিরে বের হতেই হবে!”

“কিছু চিন্তা না করেই এডমিশন ক্যান্সেল করে দিবি, ব্রেকাপ ও করে ফেললি!”

“শোনো জীবনে রিস্ক নিতে হবে। রিস্ক না নিলে কিছুই হবে না!”

“রিস্ক নিবি ভেবে চিনতে নিবি, কিন্তু এমন করে হুটহাট?”

“যা হবে হুটহাট হবে…আমার টাইম নাই। বায়”

“আরে আগে শোন, আরে দাঁড়া একটু…..” 


কে শোনে কার কথা!  হুট করে কফির কাপ রেখে ছুটলো ইউনিভার্সিটির দিকে। এই ছেলের ব্রেন হিপনোটাইস হয়ে গেছে! ব্রেনের লজিক্যাল পার্ট কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছে! আজ অঘটন কিছু একটা ঘটাবেই। সময়ের আগে ওকে গিয়ে ধরতে হবে। প্যান্ট আর শার্ট পরার টাইম নেই। খালি গায়ে, লুঙ্গি পড়া অবস্থাই ছুটলাম ওকে থামাতে। Break the Rule, Get out of the Matrix!

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

হ হতে হাবি-র-ল - ০১

হাতির ঝিলের ২ নাম্বার ব্রিজের উপর দাঁড়িয়ে মন্ড নামক স্টোবেরী ফ্লেভারের সিগারেটটায় টান দিলাম। ব্রিজে তেমন লোক নেই। দুইটা ছেলে একে অপরের দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসছে, একজন আরেকজনের হাত ছুঁয়ে দিচ্ছে.... ভাব চক্কোরে বুঝলাম হয়তো গে, অথবা দুইজনই OCD তে আক্রান্ত। কে জানে? দুনিয়াতে কি থাকতে পারে আমার তা সব জানা নেই। মগবাজার যাবো, সেখান থেকে আগারগাঁও... আবার হেঁটে একনাম্বার ব্রিজে এসে চক্রাকার বাসে উঠলাম।  বাসটাও খালি, ভেতরে একটা ছেলে একটা মেয়ে। উচ্চস্বরে হেসে হেসে কথা বলছে। আমি হেডফোনে গান অফ করে ওদের কথা শুনছি। হাসার মত কোন কথা না, ছেলেটা লেইম লেইম জোক বলছে আর মেয়ের কাছে তা মিষ্টারবিনের কমেডি শো মনে হচ্ছে...  ভাবলাম,  " এখানে ছেলে মেয়ে বিয়ের আগে ডেইট এ গেলে, হাত ধরে হাটতে একদল এমন ভাবে মনে হয় দুনিয়ার সবথেকে জঘন্যতম কাজ করে ফেলেছে, দুই মিনিট পর এখানে লিটল বয় ফাটবে।  আর দুইটা ছেলে বিয়ের আগে, ধুর, বিয়ের আগে মানে কি! দুইটা গে ছেলে সারাদিন রুমে থাকলেও কিছু ভাবে না! আর মেয়েরা তো...... অদ্ভুত জায়গারে ভাই!! "  আরে কি ভাবতাছি  এগুলা?  কাম কাজ না থাকলে যা হয় আরকি! মগবা...

পরশ্রীক্রিয়া প্রেম

সকাল সকাল পাশের ফ্লাটে তুমুল ঝগড়ার শব্দে ঘুম ভেঙ্গে গেল। ঘুমঘুম চোখে চিন্তা করার চেষ্টা করলাম কাদের বাসায় হতে পারে? তমাদের বাসায়? তমা আমার ছাত্রী, এইবার ইন্টারে ফাস্ট ইয়ারে পড়ছে। যদি একটু বেশি পরিচয় দিতে যাই তাহলে তমা আমার বর্তমান প্রেমিকা। ওকে আমি ফিজিক্স আর ম্যাথ পড়াই।  ওর বাসায় এই টিউশনি পেতে আর তমার সাথে রিলেশনে যেতে লিটারলি একটা বিশাল প্লান করতে হয়েছিলো। সেই প্লান আরেকদিন বলবো। আজকের কাহিনী ভিন্ন… আমার জানা মতে, ওদের বাসায় তেমন ঝগড়া হয়না। আজ সকাল সকাল এতো ঝগড়া হওয়ার কারণ? বিছনায় শুয়েই তমা’কে মেসেঞ্জারে নক দিলাম, “কি হয়েছে তোমাদের বাসায়?” তমা অনলাইনে নেই। ওর ফোন নাম্বার আছে কিন্তু নিয়ম হলো আগে ও’আমাকে মিসকল দিবে তারপর আমি ওকে কল দিতে পারবো। টু স্টেপ ভেরিফিকেশন। এর কারণ তমার বাবা আবুল হাসান সাহেব। আমার দেখা অদ্ভুত প্রকৃতির মানুষদের মধ্যে অন্যতম তিনি। একদিন ফোনে কথা বলতে গিয়ে প্রায় ধরা পরে গিয়েছিলো, পরে একটা অজুহাত দিয়ে রেহাই পেয়েছে ও… বিছানায় উঠে বসতেই ঘরে মায়ের প্রবেশ। এসেই এক ভয়ংকর তথ্য দিলো আমাকে,  “তোর ছাত্রী তমা’র মা তো পরক্রিয়া প্রেম করতে গিয়ে ধরা খাইছে। ছেলে নাকি বরি...