সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

Recent Writing

TOP X

 সকাল সকাল মোবাইলের রিংটনে ঘুম ভেঙ্গে গেল। অনুর ফোন! এতো সকালে? “কি অবস্থা এতো সকা……” ভ্যা ভ্যা করে কান্নার শব্দ আসছে। “কি হইছে?” “দাদা……” আবারো ভ্যা ভ্যা করে কান্নার শব্দ, “আরে কি হইছে? কান্না করতেছো কেন?” “দাদা, অভি, অভি……”  “আরে এতো কান্না করলে তো কথাই বলতে পারবা না। আর অভি তো ঘুমাচ্ছে।” “দাদা, অভি আমার সাথে ব্রেকাপ করেছে!” “কি!!!” অনুস্মিতা কানতে কানতে বললো, “সকালে উঠে দেখি অভির ম্যাসেজ। ম্যাসেজটা আপনাকে ফরোয়ার্ড করে দিচ্ছি। কি হয়েছে ওর কিছুই বুঝতে পারছি না। আমাকে সব জায়গা থেকে ব্লক করে দিয়েছে!” “আগের দিন ঝগড়া হয়েছিলো? তোমাদের তো দুই দিন পর পর খালি ঝগড়া!” “না দাদা, আমাদের গত ২/৩ মাস ধরে কোন সমস্যা হয়নি। আজ সকালে উঠে দেখি অভির ম্যাসেজ! তারপর…” “আচ্ছা, ফোন রাখো, দেখছি কি হয়েছে!” অভিজিৎ আমার ছোটভাই, আর অনুষ্মিতা ওর গার্লফ্রেন্ড। অনুষ্মিতা আমার ছোট বোনের মতো, আমাদের পরিবার সাথে ওদের পরিবারের বিশাল ভালো সম্পর্ক। আমার দেখা পৃথিবীর অন্যতম সুন্দর সম্পর্কের মধ্যে ওদেরটা একটা। আমার ধারণা ছিল পৃথিবীর সবার সম্পর্ক ভেঙ্গে গেলেও ওদেরটা ভাঙ্গবে না। কিন্তু আমার ধারণাকে ভেঙ্গে দিয়ে কি হয়ে ...

পরশ্রীক্রিয়া প্রেম


সকাল সকাল পাশের ফ্লাটে তুমুল ঝগড়ার শব্দে ঘুম ভেঙ্গে গেল। ঘুমঘুম চোখে চিন্তা করার চেষ্টা করলাম কাদের বাসায় হতে পারে? তমাদের বাসায়?


তমা আমার ছাত্রী, এইবার ইন্টারে ফাস্ট ইয়ারে পড়ছে। যদি একটু বেশি পরিচয় দিতে যাই তাহলে তমা আমার বর্তমান প্রেমিকা। ওকে আমি ফিজিক্স আর ম্যাথ পড়াই। 

ওর বাসায় এই টিউশনি পেতে আর তমার সাথে রিলেশনে যেতে লিটারলি একটা বিশাল প্লান করতে হয়েছিলো। সেই প্লান আরেকদিন বলবো। আজকের কাহিনী ভিন্ন…


আমার জানা মতে, ওদের বাসায় তেমন ঝগড়া হয়না। আজ সকাল সকাল এতো ঝগড়া হওয়ার কারণ?


বিছনায় শুয়েই তমা’কে মেসেঞ্জারে নক দিলাম,

“কি হয়েছে তোমাদের বাসায়?”

তমা অনলাইনে নেই।


ওর ফোন নাম্বার আছে কিন্তু নিয়ম হলো আগে ও’আমাকে মিসকল দিবে তারপর আমি ওকে কল দিতে পারবো। টু স্টেপ ভেরিফিকেশন। এর কারণ তমার বাবা আবুল হাসান সাহেব। আমার দেখা অদ্ভুত প্রকৃতির মানুষদের মধ্যে অন্যতম তিনি। একদিন ফোনে কথা বলতে গিয়ে প্রায় ধরা পরে গিয়েছিলো, পরে একটা অজুহাত দিয়ে রেহাই পেয়েছে ও…


বিছানায় উঠে বসতেই ঘরে মায়ের প্রবেশ। এসেই এক ভয়ংকর তথ্য দিলো আমাকে, 

“তোর ছাত্রী তমা’র মা তো পরক্রিয়া প্রেম করতে গিয়ে ধরা খাইছে। ছেলে নাকি বরিশালের’ই। আবুল সাহেব তাই তো সকাল থেকে স্ত্রীর সাথে ঝগড়া করছে। বলতো এই বয়সে মানুষ এইসব কাজ করে? ছি ছি ছি ছি!”


রিতিমত ধাক্কা খেলাম। আন্টির মত এমন মহিলা আমি আমার জীবনে দেখি নাই। এতো ভালো, সুশীল, ভদ্র। আর ইনি নাকি শেষমেষ এইসব কাজে… হয়তো দাম্পত জীবনে সুখি ছিলেন না।


যদিও অনেকদিন আগে আংকেলকে দেখেছি রাস্তায় দাঁড়িয়ে ইলেকট্রিক খাম্বায় লাগানো কলিকাতা হারবালের পোষ্টার দেখতে। মনে হয় আগে থেকেই সমস্যা ছিল নাহলে মাত্র একটি মেয়ে জন্ম দিয়ে বাঙ্গালীরা থেমে থাকে না…


তমা’কে দেওয়া মেসেজটা আনসেন্ট করে দিলাম। এইসময়ে কি হয়েছে জানতে চাওয়া ঠিক না।


প্লান ছিলো সামনের বছর বাসায় আমার আর তমার রিলেশনের কথা জানাবো। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে আমার বাসায় লোকজনের কাছে প্রস্তাবটা দিলে তারা কেমন ভাববে! তারা কি মানবে? যেই মেয়ের মা পরিক্রিয়া প্রেমে যুক্ত সেই ঘরের মেয়ের সাথে প্রেম…… পরিবার কি মেনে নিবে? সমাজ কি মেনে নিবে?


ধুর, সকাল সকাল মনটা খারাপ হয়ে গেল।



হাতমুখ ধুয়ে চা খেতে খেতে ভাবতে থাকলাম কি করা যায়…


সিদ্ধান্ত নিয়ে নিলাম, জীবনে তাই হোক না কেন তমাকে আমি ছাড়বো না। মা খারাপ হলেই যে মেয়ে খারাপ হবে এমন তো না। আমি তমার মধ্যে আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ ভালোবাসাকে খুঁজে পেয়েছি। কোন মূল্যে এই ভালোবাসাকে আমি হারাতে দিবো না। যদিও এই সমাজ আমাকে আর তমাকে মেনে না নেয় তাতে আমার কিছু আসে যায় না। তমার জন্য আমি আমার পরিবার ত্যাগ করতেও প্রস্তুত।


মনের মধ্যে প্রবল একটা শক্তি সঞ্চয় করে নিলাম।


ব্যাপারটা আরেকটু অনুসন্ধানের জন্য বেড়িয়ে পড়লাম বাহিরে। 


গলির টং এর দোকানটা তমাদের বাসা দেখে খানিকটা দূরে। এইসব টং দোকানের মামারা দুনিয়ার যেকোন বই থেকে বেশি তথ্য রাখে, যেমনঃ কবে আমেরিকার ধ্বংস হবে, দেশের লাল আর সাদা দল নিয়ে এমন কিছু তথ্য যা আসলে এনএসআই, র, মোসাদ, এফবিআই জানে কিনা সন্দেহ! এমন কোন তথ্য নেই এদের কাছ থেকে ছুটে পালাতে পারে। যদিও অধিকাংশ তথ্য ভুয়া হয়ে থাকে কিন্তু এলাকার মধ্যে কোন কিছু ঘটলে ঐসব তথ্য সাধারণত সত্য হয়ে থাকে।


“মতিভাই একটা চা দিয়েন…”

মতিভাই চায়ের কাপ পরিষ্কার করছে। আমি আরেকটু থেমে বললাম,

“মতিভাই, আবুল আংকেলদের বাসায় কি হইলো বলেন তো? সকাল সকাল ঝগড়াঝাটি ” 


মতিমিয়া গলায় হুংকারের সুরে বললো,

“কি আর হইবো? কেয়ামত আর দূরে নাই মিয়া। আবুল মিয়ার পরক্রিয়া প্রেম ধরা পড়ছে। মহিলা নাকি আবুল মিয়ার অফিসের কলিগ। এই প্রেম নাকি ৫ বছর ধরে চলছে।  স্বামী বিদেশ থাকে আর এই ফাঁকে দেশে কাম চালায়…সাইড ব্যবসা আরকি”


রিতিমত হার্ট এট্যাক হবার পর্যায়ে চলে গেলাম। শেষমেষ আংকেল? তাও এই বয়সে এইসব! তাহলে মা যা বলেছে তা ভুল? 

ভাবতে লাগলাম, এই যুগে কার মনে কি থাকে কেউ জানতে পারে না। কিন্তু আবুল লোকটারে অদ্ভুত ভাবতাম কিন্তু মানুষটা এমন নোংরা প্রকৃতির। বাসায় স্ত্রী রেখে অফিসে প্রেম।

আহারে… খালি খালি আন্টিরে বাজে মহিলা ভেবেছি।

আন্টির জন্য প্রচন্ড খারাপ লাগলো!


বাসায় গিয়ে মা’কে ঘটনা বললাম,

“ তোমরা এইসব কাহিনী কই পাও? আন্টির মত এতো ভালো মহিলা আমার জীবনে আমি খুব কম দেখেছি আর তারে নিয়ে এইসব কথা…”

মা খানিকটা উদ্বেগের সুরে বললো,

“আরে উপরের বিল্ডিং এর রহিমা আপায় বলছে আমারে, তাইতো…”


বুঝলাম কোন একট গুজব ছড়াতে এদের উপরে উস্তাদ কেউ নাই।


কিন্তু যাইহোক চিন্তা খানিকটা কমেছে। মেয়ের মা পরক্রিয়ার থাকলে সমস্যা বেশী ছিলো। সমাজ এখানো ছেলেদের সাইডে ১/২ টা থাকাটা মেনে নেয়।



মনকে আরো শক্ত করলাম,

“যা হবার হবে! বাবা-মা দুইজনও যদি পরক্রিয়া প্রেমে থাকে তাহলেও আমার কিছু না। আমি তমাকে ভালোবাসি এবং তমাও আমাকে ভালোবাসে এটাও যথেষ্ট! লাগলে পুরো দুনিয়ার বিপরীতে আমি যাবো!” 


মা বাজারের লিস্ট ধরিয়ে দিলো বাজার আনতে। বাজারে গিয়ে তমাদের ফ্লাটের রিয়াজ ভাইয়ের সাথে দেখা। রিয়াজ ভাই তমাদের বিল্ডিং এর নিচ তলায় থাকে। বয়সে আমার থেকে ১/২ বছরের বড়।


“রিয়াজ ভাই, কি অবস্থা, কেমন আছেন?”

রিয়াজ ভাই হতাশের সুরে বললো,

“আর অবস্থা ভাই! বিল্ডিং এ কি থাকা যায়!?? কোন ভদ্র মানুষরা ঐসব জায়গায় থাকে? আপনি যে বাসায় পড়ান, ঐ যে আবুল সাহেব, সে তো কাজের মাইয়ার সাথে কাম করতে গিয়া ধরা খাইছে”

“হ্যা, সকালে সেটাই তো শুনলাম…………………….কি? কাজের মাইয়ার সাথে?” 


বরিশালের ভাষায় “জাগাত টাকসি” বলে একটা কথা আছে, আমার তখন অবস্থা “জাগাত টাকসি!”


শেষমেশ কাজের মেয়ের সাথে ঐসব…! লোকটাকে আমি যতটা জঘন্য ভাবতেছিলাম এখন দেখি তার থেকেও জঘন্য। আর ঐ মতিমিয়া, এই লোকও গুজব ছড়ায় তাহলে…!


“আরে হ, সকাল বেলা কাজের মেয়ে আসছিলো, আবুল মিয়ার স্ত্রী নাকি সকালে হাটতে গেছিলো। আর তার মধ্যে শুরু করে দিছে। সরাসরি নিজের মেয়ের হাতে নাকি ধরা খাইছে…”


আমি “হা” করে রিয়াজ ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে আছি। ভাবতেছি তমা মেয়েটা ব্যাপারটা কিভাবে নিচ্ছে। এতো ছোট বয়সে মেয়েটাকে এইসব ব্যাপার নিতে হচ্ছে। আহারে, কি পরিমাণ মানসিক ট্রামার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। তমা জন্য আমার বিশাল খারাপ লাগা শুরু করলো। মেয়েটার সাথে কথা বলা উচিৎ। 


রিয়াজ ভাইকে বিদায় দিয়ে দ্রুত বাজার নিয়ে বাসায় চলে আসলাম। রুমে ঢুকে তমাকে মেসেঞ্জারে নক দিলাম। মেয়েটা এখনো অনলাইনে নেই। 

বেলা ১২টার আগে যেখানে মেয়েটা কমপক্ষে ২০ টা মাইডে দিতো, আর আজ সেখানে সকাল থেকে অনলাইনে’ই নেই।


ভাবতেই আমার বুকের মধ্যে হাহাকার করে উঠছে। ভাবতে লাগলাম, 

“হে প্রিয়া, 

তোমাকে একবার আমার হতে দেও, সারা জীবনের জন্য আমি তোমাকে আর কোন দুঃখকে স্পর্শ করতে দেব না। আগলে রাখবো আমার মনের সবটুকু ভালোবাসা দিয়ে। দেহের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে হলেও আমি তোমার চোখের জল মাটিতে পরতে দিবো না।”


এই প্রথম বুঝতে পারলাম আমি আসলে তমা’কে কতটা ভালোবাসি। একটা কথা আছে না, খারাপ সময়ে বোঝা যায় কে কাকে কতটা ভালোবাসে, এখন হলো আমার আর তমার জীবনের খারাপ সময়।


তমাকে ফোন করা উচিৎ, আর এখন ফোন ওর বাবা চেক করতে আসবেও না।


পরপর ৩বার রিং দিলাম ৩ বারই কেটে দিলো। তারপর বন্ধ!

আহারে মেয়েটা, মনে হয় কষ্টে কান্না করছে। দুপুরে কি ভাত খেতে পারবে? ও যদি ভাত না খায় তাহলে আমি কি করে খাই? 


আমি জানি তমা একটু রাগী প্রকৃতির মেয়ে। এদের মন খারাপ থাকলে খাওয়া দাওয়া বন্ধ করে দেয়। 


১ ঘন্টা পর আন্টির নাম্বারে ফোন দিলাম। সংগতকারণে ফোন এখন দেওয়াই যায়। 


“আসসালামু আলাইকুম আন্টি, আমি দ্বীপ, তমার টিচার”

আন্টি খানিকটা লাঞ্ছনার সুরে বললো,

“হ্যা বাবা বলো, কি অবস্থা?”

“আন্টি তমাকে কাল একটা কাজ দিয়েছিলাম। বলেছিলাম কোন সমস্যা হলে আজ সকালে মধ্যে জানাইতে। আজ ওর একটা ছোটখাটো পরীক্ষা নিতাম আরকি। তারপর শুনলাম আপনাদের এই অবস্থা…!”


আন্টি সামান্য কর্কশের সুরে বললো,

“কি আর করবো বাবা, দুনিয়াটাই তো এমন। দোষ সব আমারই। যাইহোক, তুমি আমার সাথে আজ একটু তাড়াতাড়ি দেখা করো। ৭ টার দিকে আসো বাসায়।”


আমিও গলাটা হালকা করে শান্তনার সুরে বললাম,

“জি আন্টি, তমাকে কি আজ পড়াতে আসবো? ওকে ফোনটা দিলে একটু ভালো হতো। আমার ধারণা এই সময়ে তমাকে আমাদের বোঝানো উচিৎ…”

“হ্যা সেটাই। তমা দরজা বন্ধ করে দিছে। আমি চেষ্টা করেছিলাম কিন্তু ও দরজা খুলবে না। তুমি সন্ধ্যার দিকে এসো তারপর কথা হবে…”


কল কেটে গেল!  


মনে মনে ভাবলাম, মেয়েটার পুরুষ জাতির উপর একটা বিরুপ চিন্তা চলে আসবে। হয়তো ভাবা শুরু করবে “সব ছেলেরাই এক”। যে মেয়ে তার বাবাকে এইসব কাজ করতে দেখে তার তো এগুলা চিন্তা করা স্বাভাবিক…!


ড্রয়ারের ভেতর থেকে তমার লেখা প্রেমপত্রটা বের করলাম। প্রতিসপ্তাহে মেয়েটা আমাকে একটা করে লাভ লেটার দেয়। এই সপ্তাহেরটা কাল পেয়েছি। এই যুগের এসেও এই মেয়েটা আদিম পদ্ধতিতে ভালোবাসা বিনিময় করে। 


চিঠিতে লেখা, 

“প্রিয় দ্বীপরাজ সাহেব,

আমার ধারণা আপনার আসলে কেমেস্ট্রির টিচার হওয়া উচিৎ ছিল। অথবা শুধু আমাকে কেমেস্ট্রি পড়ালে খারাপ হতো না। আবার আমার এটাও ধারণা আপনার আসলে একজন রম্য লেখক হওয়া উচিৎ। কোন এক অদ্ভুত কারণে আপনার কথাগুলো আমার কানের ভেতর বাজতেই থাকে। আপনি প্রাইভেট পড়িয়ে চলে গেলেও আমি আপনার কথাগুলো মনে করে হাসতেই থাকি। আপনি এতো জোস কেন?


আপনার ম্যাথম্যাটিক্স এর সাইন কস টেন আমার মাথায় না ঢুকলেও আমি বুঝতে পারি আপনি কেন আমাকে প্যারাবোলা পড়াচ্ছেন। পড়ন্ত বস্তুর সূত্র আমি পারি বা না পারি, আপনার প্রেমে আমি ঠিকই পরে গেছি। 

সামনে পরীক্ষা তাই বেশী আর লিখছি না। আমার ধারণা আমার বাবা মা আপনার ব্যাপারটা সামান্য সামান্য ধরতে পেরেছে। 


ইতি, 

আপনার তমা”


মনে মনে ভাবলাম, পাগল মেয়েটা। মেয়েটা সত্যি আমাকে প্রচুর ভালোবাসে।


সন্ধ্যা ৭টার দিকে তমাদের বাসায় সামনে উপস্থিত। কলিং বেল দিতেই আংকেল এসে দরজা খুলে দিলো। লোকটার দিকে আমি ঘৃনা এবং একইসাথে লজ্জার দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছি।

“ আসো ভেতরে আসো…”

অন্যদিন হলে সালাম দিতাম কিন্তু আজ কোন কথা না বলেই ভেতরে চলে আসলাম। এই লোকের কথার কোন উত্তর দিতেও আমার লজ্জা লাগতেছে।


ভিতরে ঢুকে দেখি তমা আর আন্টি সোফার উপরে বসে আছে।

তমা আমাকে দেখে শক খেলো এমন একটা ভাব। বসতে বসতে আন্টিকে সালাম দিলাম। 

তমা এখনো আমার দিকে ‘হা’ করে তাকিয়ে আছে। আমার সিক্সসেন্স বলছে ঘরে মনে হয় আরো কিছু  ঘটনা ঘটেছে।


আমি চাচ্ছিলাম কথপোকথন আমি শুরু না করে আন্টি যাতে শুরু করুক এবং তেমনি হলো,


“আমি তোমার আংকেলকে বুঝিয়েছি যে মেয়েরা এই বয়সে এইসব কাজ ভুলে করে ফেলে। তোমার আংকেল সেই সকালে থেকে আমার উপরে ক্ষেপে আছে। তার ধারণা তোমার কারণেই এমন হয়েছে। সত্যি বলতে বাবা তোমার থেকে আমরা এগুলা আশা করিনি। তোমার প্রতি আমাদের অনেক ভরসা ছিলো…”


বুকটা আচমকা ধক করে উঠলো। মুখের চামড়ায় টান অনুভব করছি। চোখগুলো বড় বড় করে নিচের দিকে তাকিয়ে ভাবতে লাগলাম,

 

মানে???আন্টি কি বলছে এগুলা? মেয়েরা এই বয়সে কাজ ভুলে করে ফেলে? আমার আর তমার রিলেশল কি তাহলে তারা ধরে ফেলেছে? নাকি তমা’ই বলে দিয়েছে?  কিন্তু রিয়াজভাই যে বললো আংকেল আর কাজের মেয়ের প্রেমে কথা। এটাও গুজব?


এই বিশাল খারাপ পরিস্থিতেও আমি নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারলাম। খানিকটা স্বাভাবিক হয়ে আমতো আমতো করে বললাম,

“ব্যাপারটা ঠিক বুঝতে পারলাম না আন্টি…”


আন্টি এইবার খানিকটা রাগের সুরে বললেন, 

“ দেখো দ্বীপ, তোমাকে ভালো ভাবতাম। এখন এইসব অভিনয় করার দরকার নেই। এখন আবার বলো না যে তোমার বন্ধু সৈকতের সাথে আমার মেয়ের প্রেমের সম্পর্কের পেছনে তোমার কোন হাত নেই। তমা তো বাচ্চা মেয়ে, তুমিই নিশ্চই ওদের মধ্যে রিলেশনশিপে সাহায্য করেছিলে। দেখ কি কি অসভ্য চ্যাটিং করেছিলো এরা… ”


তারপর তিনি আমাকে সৈকত আর তমার চ্যাটিং দেখালেন…


মাথায় সামনে অংশে ঠাসা একটা ব্যাথা অনুভব করতে লাগলাম। চোখ ঝাপসা হয়ে আসছে। আমি এখন আবুল মিয়ার বাসায় আবুল হয়ে বসে আছি…



এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

হ হতে হাবি-র-ল - ০১

হাতির ঝিলের ২ নাম্বার ব্রিজের উপর দাঁড়িয়ে মন্ড নামক স্টোবেরী ফ্লেভারের সিগারেটটায় টান দিলাম। ব্রিজে তেমন লোক নেই। দুইটা ছেলে একে অপরের দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসছে, একজন আরেকজনের হাত ছুঁয়ে দিচ্ছে.... ভাব চক্কোরে বুঝলাম হয়তো গে, অথবা দুইজনই OCD তে আক্রান্ত। কে জানে? দুনিয়াতে কি থাকতে পারে আমার তা সব জানা নেই। মগবাজার যাবো, সেখান থেকে আগারগাঁও... আবার হেঁটে একনাম্বার ব্রিজে এসে চক্রাকার বাসে উঠলাম।  বাসটাও খালি, ভেতরে একটা ছেলে একটা মেয়ে। উচ্চস্বরে হেসে হেসে কথা বলছে। আমি হেডফোনে গান অফ করে ওদের কথা শুনছি। হাসার মত কোন কথা না, ছেলেটা লেইম লেইম জোক বলছে আর মেয়ের কাছে তা মিষ্টারবিনের কমেডি শো মনে হচ্ছে...  ভাবলাম,  " এখানে ছেলে মেয়ে বিয়ের আগে ডেইট এ গেলে, হাত ধরে হাটতে একদল এমন ভাবে মনে হয় দুনিয়ার সবথেকে জঘন্যতম কাজ করে ফেলেছে, দুই মিনিট পর এখানে লিটল বয় ফাটবে।  আর দুইটা ছেলে বিয়ের আগে, ধুর, বিয়ের আগে মানে কি! দুইটা গে ছেলে সারাদিন রুমে থাকলেও কিছু ভাবে না! আর মেয়েরা তো...... অদ্ভুত জায়গারে ভাই!! "  আরে কি ভাবতাছি  এগুলা?  কাম কাজ না থাকলে যা হয় আরকি! মগবা...

TOP X

 সকাল সকাল মোবাইলের রিংটনে ঘুম ভেঙ্গে গেল। অনুর ফোন! এতো সকালে? “কি অবস্থা এতো সকা……” ভ্যা ভ্যা করে কান্নার শব্দ আসছে। “কি হইছে?” “দাদা……” আবারো ভ্যা ভ্যা করে কান্নার শব্দ, “আরে কি হইছে? কান্না করতেছো কেন?” “দাদা, অভি, অভি……”  “আরে এতো কান্না করলে তো কথাই বলতে পারবা না। আর অভি তো ঘুমাচ্ছে।” “দাদা, অভি আমার সাথে ব্রেকাপ করেছে!” “কি!!!” অনুস্মিতা কানতে কানতে বললো, “সকালে উঠে দেখি অভির ম্যাসেজ। ম্যাসেজটা আপনাকে ফরোয়ার্ড করে দিচ্ছি। কি হয়েছে ওর কিছুই বুঝতে পারছি না। আমাকে সব জায়গা থেকে ব্লক করে দিয়েছে!” “আগের দিন ঝগড়া হয়েছিলো? তোমাদের তো দুই দিন পর পর খালি ঝগড়া!” “না দাদা, আমাদের গত ২/৩ মাস ধরে কোন সমস্যা হয়নি। আজ সকালে উঠে দেখি অভির ম্যাসেজ! তারপর…” “আচ্ছা, ফোন রাখো, দেখছি কি হয়েছে!” অভিজিৎ আমার ছোটভাই, আর অনুষ্মিতা ওর গার্লফ্রেন্ড। অনুষ্মিতা আমার ছোট বোনের মতো, আমাদের পরিবার সাথে ওদের পরিবারের বিশাল ভালো সম্পর্ক। আমার দেখা পৃথিবীর অন্যতম সুন্দর সম্পর্কের মধ্যে ওদেরটা একটা। আমার ধারণা ছিল পৃথিবীর সবার সম্পর্ক ভেঙ্গে গেলেও ওদেরটা ভাঙ্গবে না। কিন্তু আমার ধারণাকে ভেঙ্গে দিয়ে কি হয়ে ...